ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিভিউ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিভিউ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (সংক্ষেপে ঢাবি) বাংলাদেশের একটি স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়। এটি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। তাই, অনেক ছাত্রছাত্রীর স্বপ্নের ঠিকানা এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ব্রিটিশ ভারতে ১৯২১ সালে যাত্রা শুরু করে এ বিশ্ববিদ্যালয়। সূচনালগ্নে বিশ্বখ্যাত অনেক বিজ্ঞানীর দ্বারা কঠোরভাবে মান নিয়ন্ত্রিত হবার কারণে এটি সেসময় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে স্বীকৃতি পায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর একটি বিশেষত্ব হলো বাংলাদেশ স্বাধীন করতে এর অনেক অবদান ছিলো, যা পৃথিবীর ইতিহাসে অনন্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ও পরিচিতি

ঢাকার শাহাবাগ এলাকায় অবস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯২১ সালের ১ জুলাই ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত ও সৌন্দর্যময় রমনা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমির উপর গড়ে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তিনটি অনুষদ ও বারোটি বিভাগ নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রথমে ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ভারতবিভক্তির ফলে অগ্রগতির কিছুটা ব্যাহত হয়। তখন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকার প্রদেশর একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে এ দেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা উজ্জীবিত হয়। নতুন উদ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ড শুরু হয়। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩ টি অনুষদ, ৮৪ টি বিভাগ, ১২ টি ইনস্টিটিউট এবং ৫৬ টি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অনুষদ ও আসন বিশিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় এটি।

Curzon Hall

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন পড়ব?

সেই শুরু থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ দেশের মানুষের কাছে অনেক আকাঙ্ক্ষিত। যেখানে একটা রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সৃষ্টি করেছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ সহ আজ পর্যন্ত প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যাচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি ও বিখ্যাত রাজনীতিবিদ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন। সেই ব্যক্তিরা আজও আমাদের কাছে আদর্শ ব্যক্তি হিসাবে রয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশের স্থপতি এবং বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। সৈয়দ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। তাজউদ্দীন আহমেদ, বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। এম এ ওয়াজেদ মিয়া, বাংলাদেশের বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী। ড.মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী। হুমায়ূন আহমেদ, কথাসাহিত্যিক। ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, পদার্থবিদ। এমন আরও অনেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী ছিলেন যারা বর্তমানে অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি হয়েছেন তাদের কাজের মাধ্যমে। বিখ্যাত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন সত্যেন্দ্রনাথ বসু, বিশ্ব বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী। ড. এম শমশের আলী, পরমাণু বিজ্ঞানী। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সংস্কৃতি ও বাংলা ভাষার গবেষক। ড. মুনির চৌধুরী, শহীদ বুদ্ধিজীবী এরকম অনেক মহান ব্যক্তিত্ব শিক্ষকতা করেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি ছাত্রছাত্রীর কাছে ওনারা আদর্শ।

Sociology Terrace

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ও বিভাগ সমূহ

১. বিজ্ঞান অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • পদার্থ বিজ্ঞান
  • গনিত
  • রসায়ন
  • পরিসংখ্যান ও তথ্য পরিসংখ্যান
  • ফলিত গনিত
  • তাত্ত্বিক পদার্থবজ্ঞান
  • জৈবরাসায়নিক পদার্থবিদ্যা ও প্রযুক্তি

২. জীববিজ্ঞান অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • মৃত্তিকা পানি ও পরিবেশ
  • উদ্ভিদ বিজ্ঞান
  • প্রাণি বিজ্ঞান
  • প্রাণ রসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান
  • মনোবিজ্ঞান
  • অনুজীব বিজ্ঞান
  • মৎসবিজ্ঞান
  • জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি
  • চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান
  • মনোবিজ্ঞান শিক্ষা

৩. ফার্মেসি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • ফার্মেসি
  • ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি
  • ফার্মাসিউটিক্যাল প্রযুক্তি

৪. আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সস অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • ভূগোল ও পরিবেশ
  • ভূতত্ত্ব
  • সমুদ্র বিজ্ঞান
  • দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা

৫. প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

  • ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং
  • ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল
  • কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং)
  • নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং
  • রোবটিক্স এন্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং

Swimming Pool

৬. কলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • বাংলা
  • ইংরেজী
  • আরবি
  • ফারসি ভাষা ও সাহিত্য
  • উর্দু
  • সংকৃত
  • পালি ও বৌদ্ধ শিক্ষা এবং সংস্কৃতি
  • ইতিহাস
  • দর্শন
  • ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি
  • ইসলামি স্টাডিজ
  • তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা
  • ভাষাবিজ্ঞান * নাট্য কলা ও সংগীত
  • বিশ্ব ধর্মতত্ত্ব
  • ভাষাবিজ্ঞান

৭. সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • অর্থনীতি
  • রাষ্ট্রবিজ্ঞান
  • নৃবিজ্ঞান
  • গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা
  • সমাজবিজ্ঞান
  • লোক-প্রশাসন
  • আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
  • শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন
  • নারী ও লিঙ্গ শিক্ষা
  • উন্নয়ন শিক্ষা
  • জনসংখ্যা বিজ্ঞান
  • টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র
  • অপরাধবিজ্ঞান
  • যোগাযোগ বৈকল্য

৮. আইন অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • আইন

FBS Cafeteria

৯. ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • ব্যবস্থাপনা ও তথ্য ব্যবস্থা (ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম)
  • হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা (অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম)
  • বিপণন (মার্কেটিং)
  • ফিন্যান্স
  • ব্যাংকিং ও ইন্সুরেন্স
  • আন্তর্জাতিক ব্যবসা (ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস)
  • ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট
  • অর্গানাইজেশন স্ট্র‍্যাটেজি ও লিডারশীপ

১০. চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • অংকন ও চিত্রায়ন
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন
  • প্রিন্ট মেকিং
  • প্রাচ্যকলা
  • ভাস্কর্য
  • কারুশিল্প
  • মৃৎশিল্প
  • শিল্পকলার ইতিহাস

১১. চিকিৎসা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১২. স্নাতকোত্তর চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১৩. শিক্ষা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ও বিভাগ সমূহ

Institute of Information Technology

১. তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং

২. পরিসংখ্যান গবেষণা ও শিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • ফলিত পরিসংখ্যান

৩. পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান

৪. লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং
  • ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং
  • লেদার প্রোডাক্টস ইঞ্জিনিয়াররিং

৫. আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • ইংলিশ ফর স্পিকার অব আদার ল্যাঙ্গুয়েজেস (English for Speakers of Other Languages – ESOL)
  • ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার (French Language and Culture – FLC)
  • চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার (Chinese Language and Culture – CLC)
  • জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার (Japanese Language and Culture – JLC)

৬. শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • শিক্ষা

৭. সমাজকল্যান ও গবেষণা ও ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • সমাজকল্যান

৮. স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • স্বাস্থ্য অর্থনীতি

৯. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ভালনেরাবিলিটি শিক্ষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

১০. ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১১. শক্তি ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১২. কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Institute of Business Administration

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব সুবিধা ও গবেষণা কেন্দ্র

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নত মানের ল্যাবরেটরি বা গবেষণাগার রয়েছে। প্রয়োজনীয় গবেষণা যন্ত্র ও প্রযুক্তির মাধ্যমে এখানে শিক্ষাদান করা হয়। এছাড়াও এখানে রয়েছে ৫২ টি গবেষণা কেন্দ্র ও ব্যুরো, যা কিনা বাংলাদেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেশি। এগুলো দেশের গবেষণা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে অনেক ভূমিকা রাখছে।

Shahidullah Hall Pond

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের থাকার জন্য ১৯ টি হল এবং ৫ টি হোস্টেল রয়েছে। প্রতিটি হলে রয়েছে আলাদা রিডিং রুম এর ব্যবস্থা, ডাইনিং রুম, ইনডোর খেলার ব্যবস্থা এবং ওয়াইফাই এর ব্যবস্থা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসমূহ

  • ১. সলিমুল্লাহ মুসলিম হল
  • ২. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল
  • ৩. জগন্নাথ হল
  • ৪. ফজলুল হক মুসলিম হল
  • ৫. শহীদ সার্জেন্ট জহরুল হক হল
  • ৬. রোকেয়া হল
  • ৭. মাস্টারদা সূর্যসেন হল
  • ৮. হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল
  • ৯. সামসুন নাহার হল
  • ১০. কবি জসীম উদ্দিন হল
  • ১১. স্যার এ.এফ.রহমান হল
  • ১২. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল
  • ১৩. মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল
  • ১৪. বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল
  • ১৫. অমর একুশেহল
  • ১৬. স্যার ফিলিপ হার্টগ আন্তর্জাতিক হল
  • ১৭. বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল
  • ১৮. বিজয় একাত্তর হল
  • ১৯. কবি সুফিয়া কামাল হল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল সমূহ

  • ১. শহীদ অ্যাথলেট সুলতানা কামাল হোস্টেল
  • ২. আইবিএ হোস্টেল
  • ৩. শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাস
  • ৪. ড. কুদরত-ই-খুদা হোস্টেল
  • ৫. নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছাত্রী নিবাস

Sufia Kamal Hall

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সুবিধা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক সম্পর্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী আর শিক্ষক এর মধ্যে অনেক ভালো সম্পর্ক থাকে। এখানের শিক্ষকরা খুবই বন্ধুসুলভ আচরণ। এছাড়াও বড় ভাই আপুরা অনেক হেল্পফুল হয়।

Central Library

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ছয় লাখ আশি হাজারেরও অধিক বই আছে। এখানে বইয়ের পাশাপাশি দৈনিক সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন ও অন্যান্য জার্নাল আছে। পাশাপাশি অনুষদ ও ইনস্টিটিউট ভিত্তিক আলাদা আলাদা গ্রন্থাগার আছে। যার মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ই-লাইব্রেরী অন্যতম।

Transport

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরপরিবহন ব্যবস্থা

অনাবাসিক ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৩৪ টি বাস রয়েছে। যা বিভিন্ন রুটে সপ্তাহে ৫ দিন চলাচল করে।

Teacher-Student Centre

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র বা টিএসসি চারতলা ভবন বিশিষ্ট। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন সচল রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় সুলভ মূল্যে খাবার পাওয়া যায়। এটি টিএসসির পাশে অবস্থিত। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষদে আরও অনেকগুলি ক্যান্টিন আছে।

Auditorium

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তন

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বৃহৎ আকারের একটি মিলনায়তন আছে। এটি টিএসসির পাশে অবস্থিত।

Nawab Ali Senate Bhaban

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান বলে এর নীতি-নির্ধারণের জন্য রয়েছে একটি সিনেট ভবন। যার নাম নওয়াব আলী সিনেট ভবন। এটি অনেকটা জাতীয় সংসদ ভবনের মত হওয়ায় একে ‘মিনি সংসদ ভবন’ নামেও ডাকা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলাধুলা ও বিনোদন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলা করার জন্য একটি কেন্দ্রীয় মাঠ আছে। এছাড়াও প্রত্যেক হলে আলাদা মাঠ রয়েছে খেলাধুলার জন্য। বিনোদনের জন্য অনেক সাংস্কৃতিক সংঘ আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা মান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বিজ্ঞান একাডেমি পুরষ্কার লাভ করেন। এশিয়াইউকের পক্ষ থেকে শীর্ষ ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জায়গা করে নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন ৬৪ তম স্থানে রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস লাইফ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস লাইফ এক কথায় অসাধারণ। পড়াশুনা, খেলাধুলা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়ে একটি পারফেক্ট ক্যাম্পাস লাইফ এখানে উপভোগ করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় যে শুধু পড়াশোনার জায়গা নয়, বরং এর সাথে ক্রীড়া ও সংস্কৃতির যে প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ভালোভাবে উপলব্ধি করা যায়। এছাড়াও পড়াশুনার যে কোনো সমস্যায় বড় ভাইয়া আপুরা এগিয়ে আসে। শিক্ষকগণও অনেক সাহায্য করে। শিক্ষকগণ আন্তরিকতার সহিত পড়াগুলো বুঝিয়ে দেয়। সবুজ প্রকৃতির মধ্যে পড়াশুনার একটা ভালো পরিবেশ সৃষ্টি হয়। উৎসবের ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক অনেক এগিয়ে। পহেলা বৈশাখ উৎসব, বসন্ত উৎসব, আষাঢ় উৎসব, একুশে ফেব্রুয়ারি উৎসব সহ অনেক উৎসব পালন করে থাকে। এই উৎসব গুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষণার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে থাকে। দেশের জাতীয় শহীদ মিনার এই বিশ্ববিদ্যালয়েই অবস্থিত। পহেলা বৈশাখে চারুকলা বিভাগের ছাত্রছাত্রীরাসহ অন্যান্য বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা মিলেমিশে দেশের সবচেয়ে বড় মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে থাকে। এছাড়াও, বার্ষিক ভ্রমন, বিভিন্ন সময়ে কনসার্ট, আন্তঃবিভাগ প্রতিযোগিতা, আন্তঃহল প্রতিযোগিতাসহ অনেক খেলার আয়োজন করে। পাশাপাশি বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনেক অনুষ্ঠান এর ব্যবস্থা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রত্যেক হলেই আছে বিতর্ক ক্লাব। এজন্য এখানে ক্যাম্পাস লাইফটা অনেক মজার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোসাইটি ও ক্লাব

উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে রয়েছে:

প্রপদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র,বাংলাদেশ উদীচি শিল্পীগোষ্ঠী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টুরিস্ট সোসাইটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটি (DUITS), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স সোসাইটি (DUSS), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা, বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ, বাংলাদেশ ওপেন সায়েন্স অর্গানাইজেশন, বাঁধন, সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন ইত্যাদি।

Shaheed Minar

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিস্তম্ভ ও ভাস্কর্য

১. অপরাজেয় বাংলা

স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মরণে নির্মিত,মুক্তিযোদ্ধা ভাস্কর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ। ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর ১২ ফুট উচ্চতা, ৮ফুট প্রস্থ ও ৬ ফুট ব্যাসের এই ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করা হয়।

২. সন্ত্রাস বিরোধী রাজু স্মারক ভাস্কর্য

টিএসসি তে ১৯৯৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ভাস্কর্যটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। শিল্পী শ্যামল চৌধুরী এটি তৈরি করেন।

৩. শহীদ মিনার

১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ। ১৪ মিটার লম্বা এই স্তম্ভটি ভাস্কর হামিদুর রহমান তৈরি করেন। ১৯৬৩ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানের শহীদ মিনারটি ১৯৭২ সালে পুননির্মাণ করা হয়।

৪. দোয়েল চত্বর

৫. তিন নেতার মাজার

৬. ঢাকা গেইট

৭. স্বাধীনতা সংগ্রাম

৮. ঘৃণাস্তম্ব

৯. স্বোপাজিত স্বাধীনতা

১০. মধুদার ভাস্কর্য

১১. সপ্তশহীদ স্মৃতিস্তম্ভ

১২. শহীদ ড. মিলন ভাস্কর্য

১৩. স্বামী বিবেকানন্দ ভাস্কর্য

১৪. বৌদ্ধ ভাস্কর্য

১৫. শান্তির পায়রা ভাস্কর্য

১৬. মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ

এগুলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

Raju Sculpture

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পদ্ধতি ও প্রস্তুতি

বিগত বছর গুলোতে যেভাবে প্রশ্ন এসেছিল এবার অর্থাৎ ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে অনেকটা পরিবর্তন হবে প্রশ্নে। এবার থেকে সর্বমোট ১০০ নম্বরের প্রশ্ন হবে। এর মধ্যে ৬০ নম্বর বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও ৪০ নম্বর লিখিত আসবে। পরীক্ষা এর বিষয় গুলা আগের মতোই থাকবে। অর্থাৎ প্রত্যেক ইউনিটে নিজস্ব গ্রুপের বিষয়াবলীর উপর প্রশ্ন হবে। শুধু মানবন্টনটা পরিবর্তন হবে। ঢাবি পরীক্ষায় ভালো পজিশন করতে হলে প্রত্যেকটা বিষয় খুব ভালো করে পড়া লাগবে।কারণ ঢাবির প্রশ্নটা একটু ব্যাসিক লেভেল থেকে করা হয়। খুব অল্প টাইম এর মধ্যে একটা বহুনির্বাচনি করার চেষ্টা করতে হবে। আর লিখিত প্রশ্নের জন্য ছোট ছোট ম্যাথ গুলা প্র্যাকটিস করতে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় সময় খুব কম থাকে। তাই ভর্তি যুদ্ধে এগিয়ে থাকতে অল্প সময়ে সমাধান করার চর্চা থাকতে হবে। বাসায় বিগত বছরের প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করতে পারো। পরীক্ষাগুলি ভালো করার চেষ্টা করে যেতে থাকতে হবে। নিজেকে যাচাই করে নিতে হবে ভালোভাবে। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। বই গুলার উপরে ভালো দক্ষতা রাখতে হবে। তাহলেই আসা করা যায় তুমি সফল হবে ইনশাআল্লাহ।

Mukti O Gonotontro Toron

শেষ কথা

তোমার স্বপ্ন যদি হয় ৬০০ একরের এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তবে দেরি না করে এখন থেকেই সেভাবে এগিয়ে যাও। তোমাদের আগমনে ক্যাম্পাস মুখরিত হওয়ার অপেক্ষায় রইলাম। তোমাদের চেষ্টা সফল হোক।

মো: সজিব হোসেন

মনোবিজ্ঞান বিভাগ (৫৪তম ব্যাচ, ২০১৮-১৯)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় রিভিউ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় রিভিউ

সবুজে ঘেরা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। অনেক ছাত্রছাত্রীর কাছে স্বপ্নের আরেক নাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংক্ষেপে জাবি। বিদ্যাপীঠটি নিজের রূপের মাধ্যমেই কেড়েছে বহু ছাত্রছাত্রীদের হৃদয়। তাই তো জাবির আরেক নাম জানবিবি।

Entrance

Entrance

অবস্থান ও পরিচিতি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একটি অন্যতম এবং একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকার অদূরে সাভার এলাকায় প্রায় ৬৯৭.৫৬ একর এলাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটির উত্তরে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, উত্তর-পূর্বে সাভার সেনানিবাস, দক্ষিণে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং পূর্বে একটি বৃহৎ দুগ্ধ উৎপাদন খামার (ডেইরি ফার্ম) দ্বারা পরিবেষ্টিত। বিশ্ববিদ্যালয়টির শ্যামল পরিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য জলাশয় একে পরিযায়ী পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তুলেছে যার ফলে এটি পাখি পর্যবেক্ষকদের এক পছন্দের জায়গা।

বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯৭০ সালে জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। সম্পূর্ণরূপে এর কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭২ সালে এবং ১৯৭৩ সালে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম ব্যাচে অর্থনীতি, ভূগোল, গণিত এবং পরিসংখ্যান এই চারটি বিভাগের ১৫০ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে সবুজে ঘেরা জাবি।

Campus

Campus

অনুষদসমূহ

বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ টি অনুষদের অধীনে ৩৫ টি বিভাগ রয়েছে।
এগুলো হল:

গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদ:
১. গণিত বিভাগ
২. পরিসংখ্যান বিভাগ
৩. রসায়ন বিভাগ
৪. পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ
৫. ভূতাত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ
৬. কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
৭. পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ

সমাজবিজ্ঞান অনুষদ:
১. অর্থনীতি বিভাগ
২. ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ
৩. সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
৪. নৃবিজ্ঞান বিভাগ
৫. নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ
৬. লোকপ্রশাসন বিভাগ

কলা ও মানবিকী অনুষদ:
১. বাংলা বিভাগ
২. ইংরেজি বিভাগ
৩. ইতিহাস বিভাগ
৪. দর্শন বিভাগ
৫. নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ
৬. প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ
৭. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
৮. জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ ‍বিভাগ
৯. চারুকলা বিভাগ

জীববিজ্ঞান বিষয়ক অনুষদ:
১. উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ
২. প্রাণিবিদ্যা বিভাগ
৩. ফার্মেসী বিভাগ
৪. প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ
৫. মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ
৬. বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
৭. পাবলিক হেলথ্ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগ

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ:
১. ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ
২. মার্কেটিং বিভাগ
৩. একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ
৪. ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ

আইন অনুষদ:
১. আইন ও বিচার বিভাগ

Department of Physics

Department of Physics

ইন্সটিটিউটসমূহ

১. ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউট (আইবিএ)
২. ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি)
৩. ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেনসিং
৪. বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট

Muktomoncho

Muktomoncho

ফ্যাসিলিটি

ল্যাব সুবিধা ও গবেষণার সুযোগ:
জাবিতে রয়েছে পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা ও গবেষণার নানা যন্ত্রপাতি। জ্ঞান পিপাসু ছাত্রছাত্রী আর শিক্ষকদের গবেষণার জন্য রয়েছে বৃহৎলাইব্রেরী ও গবেষণাগার। আরও রয়েছে:
– ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র
– ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষনা কেন্দ্র
– ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র
– সেন্টার অব এক্সিলেনস ইন টিচিং অ্যান্ড লার্নিং
চিকিৎসা সেবার জন্য রয়েছে একটি মেডিকেল সেন্টার।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য:
জাবি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। এখানের ক্যাম্পাস যে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর তাই নয়, এখানে আড্ডা জমে অতিথি পাখির। পৃথিবীর অন্যতম বড় প্রজাপতি মেলা হয় এখানে। প্রতি বছর শীতে পাখি মেলা ক্যাম্পাসের জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয় অনেকখানি।

Guest Birds

Guest Birds

শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক:
জাবিই সম্ভবত বাংলাদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে শিক্ষকদের সাথে শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সম্পর্ক বিদ্যমান। এখানে ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষকদের অভিভাবকই ভাবেন। আর শিক্ষকরাও ছাত্রদের সন্তানের মতই ভাবেন। এখানে কেউ অসুস্থ হলে তার চিকিত্‍সার খরচ বহন করতে পুরো ক্যাম্পাস একসাথে উঠে পড়ে লাগে। জাবি সতীর্থকে বাঁচানোর জন্য দিন রাত পরিশ্রম করে খাটতে থাকে সকলে। এখানে ফিল্ম ফেসটিভ্যাল করা হয় বন্যায় আক্রান্ত কিংবা শীতার্তদের অর্থ প্রদানের লক্ষে। গরীব পিতামাতার সন্তানের চিকিত্‍সায় অর্থ তুলতেও মুভি দেখাতে হয়।

পরিবহন সুবিধা:
জাবিতে শিক্ষার্থীদের জন্যও রয়েছে বাসের সুবিধা। এছাড়াও শিক্ষকমন্ডলীর জন্যও বাসের ব্যবস্থা আছে।
Transport

Transport

জাবিইজম:
জাবির সিনিয়র আর জুনিয়রের মধ্যে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। এইখানে শিক্ষার্থীদের একটি সমন্বিত আইডেনটিটি আছে। সেটি হচ্ছে তার আবর্তন বা ব্যাচ। এখন পর্যন্ত ১ থেকে ৪৮ পর্যন্ত মোটা ৪৮ টি আবর্তন রয়েছে। ধর, কেউ বান্দরবান ট্যুরে গেল। সেখানে দায়িত্ত্বরত এএসপি সাবেক জাবি শিক্ষার্থী। তিনি যদি জানেন যে জাবির কেউ এসেছে শত কাজ ফেলে চলে আসবেন এবং দুজনে এমনভাবে কথা বলবেন যেন তারা বহুকালের পরিচিত দুই ভাই। এই যে জাবিয়ানদের হৃদ্যতা এটা মনে হয় স্রষ্টাপ্রদত্ত এবং এটি আবর্তন পরম্পরায় অক্ষুণ্ন রয়েছে।
বিখ্যাত ব্যাক্তিদের অনুপ্রেরণা:
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে সফল উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ত্বে দেশ সেরা। তাঁর আছে ৩৫০ টির অধিক মৌলিক গবেষণপত্র এবং বর্তমানে রসায়নের এই অধ্যাপক বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের সদস্য। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম দেশের প্রথম নারী উপাচার্য। তিনি মমতা আর আন্তরিকতা দিয়ে ক্যাম্পাসের প্রতি নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। বর্তমানে দেশের বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী প্রফেসর মামুন জাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের। বাংলাদেশের কোটি মানুষের প্রিয় মাশরাফি বিন মোর্তজা জাবির দর্শন বিভাগের ৩৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী। দেশের অন্যতম সেরা অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৩৬ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সাতারু মাহফিজুর রহমান সাগর, নারী ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য শারমিন সুপ্তা এ সবুজ ক্যাম্পাসেরই ছাত্র। প্রয়াত শক্তিমান অভিনেতা হুমায়ূন ফরিদী জাবির ছাত্র। জীবিতদের মধ্যে শহীদুজ্জামান সেলিম, মনপুরার মিলি, সুভাসিশ ভৌমিক, ফারুক আহমেদ, সুভাসিশ সিনহা, সুমাইয়া শিমু, মম, সজল প্রমুখ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
Mir Mosharraf Hossain Hall

Mir Mosharraf Hossain Hall

আবাসিক হলসমূহ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অন্যতম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট হল সংখ্যা ১৬টি, এর মধ্যে ছাত্রদের জন্য ৮টি এবং ছাত্রীদের জন্য ৮টি হল রয়েছে এবং কিছু হল নির্মাণাধীন রয়েছে।
হলগুলো:
১. আল বেরুনী হল
২. মীর মশাররফ হোসেন হল
৩. শহীদ সালাম-বরকত হল
৪. আ. ফ. ম. কামালউদ্দিন হল
৫. মওলানা ভাসানী হল
৬. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল
৭. ফজিলাতুন্নেসা হল
৮. নওয়াব ফয়জুননেসা হল
৯. প্রীতিলতা হল
১০. জাহানারা ইমাম হল
১১. বেগম খালেদা জিয়া হল
১২. শহীদ রফিক-জব্বার হল
১৩. শেখ হাসিনা হল
১৪. বেগম সুফিয়া কামাল হল
১৫. বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেসা হল
১৬. বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল

এছাড়া প্রতিটি হলেই রয়েছে ডাইনিং হল, ইনডোর গেমিং এর সুবিধা, আলাদা রিডিং রুম, বিনোদনের জন্য রয়েছে টিভি রুম এবং ওয়াইফাই এর সুব্যবস্থা।

Bangabandhu Sheikh Mujibor Rahman Hall

Bangabandhu Sheikh Mujibor Rahman Hall

ক্যাম্পাস লাইফ

জাবির ক্যাম্পাস লাইফ তার নিজস্ব রূপের মতোই বৈচিত্র্যময় এবং আনন্দে ভরপুর। সিনিয়র জুনিয়রের মতো অটুট, সম্মান, শ্রদ্ধা আর স্নেহের সম্পর্কে মুখরিত থাকে জাবির প্রতিটি আঙিনা। প্রতি বছরই নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করার জন্য জানবিবি সেজে ওঠে নব বধূর মতো করে। সেই সাথে নতুনদের আপন করে নেন বড় ভাইয়া আর আপুরা। নবীনদের পদচারণায় মুখরিত হয় জাবি।
জাবিতেই অঙ্কিত হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় আলপনা।
প্রতি বছরেই শ্রদ্ধার সাথে পালিত হয় শহীদ দিবস, স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবস। পহেলা বৈশাখ উদযাপন, জাবি দিবস পালন,বসন্ত উৎসব ,হিম উৎসব ,পিঠা উৎসব পালন করা হয় আনন্দের সাথে। পাশাপাশি বিভাগীয় আয়োজন, ট্যুর, কনসার্ট, আন্তঃপ্রতিযোগীতা প্রভৃতি তো থাকছেই।
জাবিতে রয়েছে ১৫০০ লোকের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন অডিটোরিয়াম রুম যেখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনার সুব্যবস্থা রয়েছে।
এছাড়া আছে ছাত্র শিক্ষক মিলনায়তন যা সংক্ষেপে টিএসসি নামে পরিচিত।
জাবির কেন্দ্রীয় ক্যাফেটারিয়ায় রয়েছে সুলভমূল্যে খাবারের ব্যবস্থা যার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রয়েছে ২৯ জন স্টাফ।আর সাথে খাবারের জন্য বিখ্যাত জাবির বটতলা তো আছেই।

Pahela Boishakh

Pahela Boishakh

ভাস্কর্য

শহীদ মিনার
এর স্থপতি রবিউল হুসাইন।১৯৫২ সালের ভাষা-আন্দোলনের ও ১৯৭১সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক হিসাবে নির্মিত এই ৫২ ফুট ব্যাস ও ৭১ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু শহীদ মিনারটি জাবিতেই অবস্থিত। এর রয়েছে ৮টি সিঁড়ি ও ৩টি স্তম্ভ ।

Shaheed Minar

Shaheed Minar

সংশপ্তক
বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য সংশপ্তক। এই ভাস্কর্যে এক পা ও এক হাত হারিয়েও এক সংশপ্তক মুক্তিযোদ্ধা বিজয়ের হাতিয়ার উর্ধে তুলে ধরেছেন। এর স্থপতি হামিদুজ্জামান খান।

অমর একুশ
সমাজবিজ্ঞান ভবনের সামনে এবং ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সাথেই রয়েছে ভাষা আন্দোলনের স্মরণে ভাস্কর্য অমর একুশ। এর স্থপতি শিল্পী জাহানারা পারভীন।

এছাড়াও রয়েছে কবির স্মরণি, মুন্নী স্মরণি, জুবায়ের স্মরণি এবং স্বপ্না স্মরণি।

Sculpture

Sculpture

সংগঠন

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠন রয়েছেঃ

বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ:
– বাংলাদেশও ওপেন সায়েন্স অর্গানাইজেশন
– জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাব
– জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থবিজ্ঞান ক্লাব
– ই-বাণিজ্য ও উদ্যোক্তা সংগঠন

সাংস্কৃতিক:
উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার, ধ্বনি, চলচ্চিত্র আন্দোলন, জলসিঁড়ি, জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদ, আনন্দন, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, জাহাঙ্গীরনগর ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ক্যারিয়ার ক্লাব, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি, উত্থানপাঠ, প্রপদ, জাহাঙ্গীরনগর স্টুডেন্টস ফিল্ম সোসাইটি, কহনকথা, অস্তিত্ব প্রভৃতি।

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট:
এই জোটে ১২টি সংগঠন রয়েছে: জলসিঁড়ি, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ধ্বনি, চলচ্চিত্র আন্দোলন, জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদ, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন, আনন্দন, জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি।

এছাড়াও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সেবামূলক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও কাজ করে।

ভর্তি পরীক্ষা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা বলতে গেলে যুদ্ধক্ষেত্রের মতো কেননা সেকেন্ড টাইম পরীক্ষা চালু রয়েছে। জাবির ভর্তি পরীক্ষা সাধারণত অক্টোবর ও নভেম্বরের মধ্যেই হয়ে থাকে। মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা । এর মধ্যে থেকে ২০ নম্বর গনণা করা হয় জিপিএ থেকে। আর মূল ভর্তি পরীক্ষা হয় ৮০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে। পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত সময় মোট ৫৫ মিনিট। যেহেতু প্রতিটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে এবং পরীক্ষা ক্যাম্পাসেই অনুষ্ঠিত হয়, তাই সব ইউনিটের পরীক্ষা কয়েকটি শিফটে অনুষ্ঠিত হয়। তবে একটি মজার বিষয় হচ্ছে জাবির প্রতিটি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় একটি কমন বিষয় থেকে প্রশ্ন আসে আর তা হচ্ছে বুদ্ধিমত্তা।

শেষ কথা

যদি তোমার স্বপ্ন হয়ে থাকে ভালোবাসার জাবি, যদি স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাও।
আর দেরি নয় শুরু করে দাও পড়াশোনা। কাল থেকে নয় এই মুহুর্ত থেকেই শুরু কর স্বপ্ন পূরণের যাত্রা কারণ সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রিভিউ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রিভিউ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সংক্ষেপে চুয়েট) বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সরকারী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। এটি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত। প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থী এখানে প্রকৌশল, স্থাপত্য, নগর পরিকল্পনা ও বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করেন।

Entrance

Entrance

পরিচিতি

অবস্থান:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত। এটি ‘রাউজান’ উপজেলার ‘পাহাড়তলি’ ইউনিয়নে চট্টগ্রাম-কাপ্তাইমহাসড়কের পাশে অবস্থিত।

ইতিহাস:
চট্টগ্রামে একটি প্রকৌশল শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে ২৮ ডিসেম্বর, ১৯৬৮ সালে “চট্টগ্রাম প্রকৌশল কলেজ” নামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের অধীনে এটি যাত্রা শুরু করে। ভর্তি শুরু হয় ১৯৬৮-৬৯ শিক্ষাবর্ষ হতে। ১লা জুলাই ১৯৮৬ সালে এটি বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি (বিআইটি), চট্টগ্রাম রুপে উন্নীত করা হয়। পরবর্তীতে ১লা সেপ্টেম্বর, ২০০৩ সালে একটি সরকারী অধ্যাদেশের মাধ্যমে এটিকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দেয়া হয়।

স্বাধীনতা যুদ্ধে চুয়েট: ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে চুয়েটের তারেক হুদা এবং মোঃ শাহ নামের ২ জন ছাত্র শহীদ হন। তাঁদের নামে বর্তমানে ছাত্রদের দুটি আবাসিক হলের নামকরণ করা হয়েছে: শহীদ মোহাম্মদ শাহ হল এবং শহীদ তারেক হুদা হল।

ক্যাম্পাস:
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মণ্ডিত চুয়েট ক্যাম্পাস ১৭১ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অনুষদের জন্য আলাদা ভবন, প্রশাসনিক ভবন, অডিটোরিয়াম, লাইব্রেরি ভবন, ওয়ার্কশপ, গবেষণাগার, ছাত্র/ছাত্রী নিবাস, শিক্ষকদের কোয়ার্টার, ক্যান্টিন, শহীদ মিনার, সোনালি ব্যাংকের শাখা, পোস্ট অফিস, মসজিদ, কনফেকশনারি, মেডিকেল সেন্টার রয়েছে। ক্যাম্পাস এলাকার ভেতরেই রয়েছে একটি প্রাকৃতিক হ্রদ, কয়েকটি পাহাড় ও নানান ধরনের গাছগাছালি। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে একটি সুবিশাল মাঠ রয়েছে।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে “চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজ” অবস্থিত।

ক্যাম্পাস লাইফ

১. অপরূপা ক্যাম্পাস:
ক্যাম্পাসের যেদিকেই চোখ যাবে শুধুই সবুজ আর সবুজ। মাঝ বরাবর চলে গেছে কংক্রিটের রাস্তা। চুয়েট মাঠের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে দারুণ এক লেক, প্রশাসনিক ভবনের সামনেই রয়েছে “পদ্ম পুকুর”। ক্যাম্পাসের কেন্দ্রেই রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে তৈরী স্মৃতি ভাস্কর্য “স্বাধীনতা চত্বর”। এছাড়াও রয়েছে অপরূপ সব ডিপার্টমেন্টাল বিল্ডিং। এসব দেখে যে কেউ চুয়েটের মায়ায় আটকে পড়তে বাধ্য।

Campus

Campus

২. সেশনজট মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় জীবন:
এককথায় বলতে গেলে, চুয়েটের মতো সেশনজট মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এদেশে কমই আছে। যদি তুমি ঠিকমতো পড়াশুনা করো তবে চার বছরের কম সময়েই পাশ করে বের হয়ে আসতে পারবে।
“ইঞ্জিনিয়ারিং মানেই প্যারা, কোন আনন্দ নাই” কথাটি ভুল প্রমাণ করতে চুয়েটের বিভিন্ন প্রোগ্রামগুলোই যথেষ্ট।

৩. হল লাইফ:
চুয়েট শিক্ষার্থীদের মূল আনন্দ-উচ্ছ্বাস হলো হলকেন্দ্রিক। ক্যাম্পাসের বেশিরভাগ প্রোগ্রামে হলভিত্তিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। হলগুলোতে সারা বছরই বিভিন্ন প্রোগ্রাম ও খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। এছাড়াও প্রতি মাসে মাসিক হল ফেস্ট এবং বছরে একবার বার্ষিক হল ফেস্টের মত বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

৪. ফেস্টিভ চুয়েট:
“ইঞ্জিনিয়ারিং মানেই প্যারা, কোন আনন্দ নাই” কথাটি ভুল প্রমাণ করতে চুয়েটের বিভিন্ন প্রোগ্রামগুলোই যথেষ্ট। বিভিন্ন দিবস উদযাপন যেমন: স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস, পহেলা বৈশাখ ছাড়াও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, প্রতিটি ডিপার্টমেন্টাল প্রোগ্রাম রীতিমতো তোমাকে মুগ্ধ করবে।

Pahela Boishakh Celebration

Pahela Boishakh Celebration

৫. অটোমেটেড লাইব্রেরি:
চুয়েট সেন্ট্রাল লাইব্রেরি দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীগুলোর মধ্যে প্রথম Automated Library। সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরিতে পড়াশুনা করতে পারে। তুমি তোমার প্রয়োজনীয় প্রায় সকল বইগুলোই পাবে লাইব্রেরিতে।

৬. পড়ালেখার বাইরে অন্যকিছু:
পড়ালেখা ছাড়াও অনেক ধরণের কাজের সাথে তুমি চাইলেই যুক্ত থাকতে পারবে এ ক্যাম্পাসে। এখানে চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটি, চুয়েট থিয়েটার, চুয়েট ফিল্ম সোসাইটি, চুয়েট ফটোগ্রাফি সোসাইটি, চুয়েট রেডিও, প্রতিধ্বনি, Dream, Try নামক বিভিন্ন সংস্থা রয়েছে। এগুলোতে যুক্ত থাকার মাধ্যমে তুমি চাইলেই তোমার দক্ষতা বাড়িয়ে নিতে পারো।

৭. অদম্য চুয়েট:
চুয়েট এগিয়ে যাচ্ছে অদম্য গতিতে। চুয়েটের ল্যাবগুলো সকল প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে স্বয়ংসম্পন্ন। যার ফলে তুমি সবকিছু শিখতে পারবে হাতে-কলমে। এছাড়াও চুয়েটে একের পর এক বিভিন্ন সেমিনার, ফেস্ট অনুষ্ঠিত হয় যা থেকে তুমি উপকৃত হবে।

৮. অনুপ্রেরণার চুয়েট:
চুয়েট ক্যাম্পাসে তুমি তোমার আশেপাশে অনেক অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষের দেখা পাবে। এখানকার সিনিয়ররা ও শিক্ষকরা অনেক হেল্পফুল, যাদের কাছ থেকে তুমি সব ধরণের হেল্প পাবে। চুয়েট থেকে পাশকৃত শিক্ষার্থীরাবর্তমানে দেশ ও বিদেশে বেশ বড় বড় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন, যা তোমাদের অনুপ্রেরণার ভান্ডার হিসেবে কাজ করবে।

অনুষদ এবং বিভাগ সমূহ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এ বর্তমানে ৫ টি অনুষদের অধীনে ১৩ টি বিভাগ রয়েছে।

অনুষদ:
১. যন্ত্রকৌশল অনুষদ
২. পুরকৌশল অনুষদ
৩. তড়িৎ ও কম্পিউটার অনুষদ
৪. প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ
৫. স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদ

ডিপার্টমেন্ট:
১. যন্ত্রকৌশল (১৮০)
২. কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (১৩০)
৩. তরিৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (১৮০)
৪. পুরকৌশল (১৩০)
৫. স্থাপত্য (৩০)
৬. পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং কৌশল (৩০)
৭. মেকাট্রনিক্স ও শিল্প কৌশল (৬০)
৮. ইলেকট্রনিক ও টেলিযোগাযোগ কৌশল (৬০)
৯. পানি সম্পদ কৌশল (৩০)
১০. নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (৩০)
১১. দুর্যোগ ও পরিবেশ প্রকৌশল
১২. পদার্থবিজ্ঞান
১৩. গণিত
১৪. রসায়ন
১৫. মানবিক

Campus

Campus

ইনস্টিটিউট ও সেন্টারসমূহ

বর্তমানে ২টি ইনস্টিটিউট এবং ৩টি সেন্টার রয়েছে। এগুলো হল:
১. ইন্সটিটিউট অফ ইনফরমেশন এণ্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (IICT)
২. ইন্সটিটিউট অফ এনার্জি টেকনোলজি (IET)
৩. ব্যুরো অফ রিসার্চ, টেস্টিং এন্ড কন্সাল্টেন্সি (BRTC)
৪. আর্থকোয়েক ইঞ্জিনিয়ারিং এণ্ড রিসার্চ সেন্টার (EERC)
৫. ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার (LC)

হল সুবিধা

ক্যাম্পাসে ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্য ৫ টি হল এবং মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ১ টি হল (আরেকটি হল নির্মাণাধীন) রয়েছে।

হলগুলো হল:
১. শহীদ মোঃ শাহ হল (সাউথ হল)
২. ডঃ কুদরত-ই-খুদা হল
৩. শহীদ তারেক হূদা হল (নর্থ হল)
৪. বঙ্গবন্ধু হল
৫. শেখ রাসেল হল
৬. সুফিয়া কামাল হল (মহিলা হল)

Sheikh Rasel Hall

Sheikh Rasel Hall

ল্যাব ফ্যাসিলিটি

১. তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক কৌশল বিভাগ

সার্কিট এন্ড মেসারমেন্ট ল্যাবরেটরি
ইলেক্ট্রনিক্স ল্যাবরেটরি
মেশিন এন্ড রিনিউএবল এনার্জী ল্যাবরেটরি
মাইক্রোওয়েভ এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাবরেটরি
ডিজিটাল ইলেক্ট্রনিক্স এন্ড মাইক্রোপ্রসেসর ল্যাবরেটরি
সিমুলেশন ল্যাবরেটরি
ভিএলএসআই (VLSI) এন্ড ডিজিটাল সিগন্যাল প্রসেসিং ল্যাবরেটরি
পাওয়ার ইলেক্ট্রনিক্স ল্যাবরেটরি
পাওয়ার সিস্টেম এন্ড প্রটেকশান ল্যাবরেটরি
হাই ভোল্টেজ ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাবরেটরি

২.যন্ত্রকৌশল বিভাগ

ফ্লুইড মেকানিক্স ল্যাবরেটরি
থার্মাল ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাবরেটরি
অন্তর্দহ ইঞ্জিন ল্যাবরেটরি
এপ্লাইড মেকানিক্স ল্যাবরেটরি
মেকাট্রনিক্স ল্যাবরেটরি
মেসারমেন্ট প্র্যক্টিস ল্যাবরেটরি
ওয়ার্কশপ (বাংলাদেশের সবেচেয়ে বড় ওয়ার্কশপ)
যন্ত্রকৌশল অঙ্কন রুম
কম্পিউটার ল্যাবরেটরি

৩. পুরকৌশল বিভাগ

স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাবরেটরি
জিও-টেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাবরেটরি
এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাবরেটরি
ট্রান্সপোর্টেশান ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাবরেটরি
হাইড্রলিক ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাবরেটরি
ওয়ার্কশপ
পুরোকৌশল অঙ্কন রুম

৪. কম্পিউটার কৌশল বিভাগ

কম্পিউটার ল্যাবরেটরি – ১
কম্পিউটার ল্যাবরেটরি – ২
কম্পিউটার হার্ডওয়ার ল্যাবরেটরি
ডিজিটাল ইলেক্ট্রনিক ল্যাবরেটরি
প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোলার (PLC) ল্যাবরেটরি
রোবোটিক্স ল্যাবরেটরি
মাইক্রোপ্রসেসর এন্ড ইন্টারফেইসিং ল্যাবরেটরি
অপারেটিং সিস্টেম ল্যাবরেটরি

৫. পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন বিভাগ

পদার্থবিজ্ঞানের সাধারণ পরীক্ষাসমূহের জন্য একটি ও আলোকবিজ্ঞান সংক্রান্ত পরীক্ষাসমূহের জন্য একটি মোট দুটি পরীক্ষাগার রয়েছে

রসায়নবিজ্ঞানের জন্য একটি পরীক্ষাগার রয়েছে।

অন্যান্য সুবিধা:

মেডিকেল সেন্টার:
প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের উদ্দেশ্যে চুয়েটে একটি মেডিকেল সেন্টার রয়েছে। এটি ২০ শয্যাবিশিষ্ট। প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক এখানে চিকিৎসা কার্যে নিয়োজিত আছেন। গুরুতর রোগীদের মেডিকেল সেন্টারের নিজস্ব এ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে বড় হাস্পাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানের এ্যাম্বুলেন্স সংখ্যা প্রায় ৫ টি।

মসজিদ:
ক্যাম্পাসে থাকা শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও শিক্ষকদের জন্য চুয়েটে ৫৬০ বর্গমিটার আয়তনের একটি মসজিদ রয়েছে। তাছাড়াও প্রতিটি হলের সামনেও মসজিদ রয়েছে।

Central Mosque

Central Mosque

ক্যান্টিন:
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ৩টি ক্যান্টিন রয়েছে। এর মাঝে দুটি ক্যান্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইট থেকে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে প্রবেশপথে গোলচত্তরের বাম পাশে অবস্থিত এবং অপর একটি পুরকৌশল ভবনের পেছনে অবস্থিত। এছাড়াও একটি ক্যাফেটেরিয়া ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে।

মিলনায়তন:
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৫০০ আসনের একটি কেন্দ্রীয় মিলনায়তন কমপ্লেক্স রয়েছে। এতে আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান। বছরের বিভিন্ন সময়ে মিলনায়তনে বিভিন্ন সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা, চলচিত্র উৎসব ইত্যাদির আয়োজন করা হয়ে থাকে।

লাইব্রেরী:
লাইব্রেরিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে একসাথে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থীর একসাথে অধ্যয়ন করার ব্যবস্থা আছে। চুয়েট লাইব্রেরিতে রেফারেন্স ও জার্নালের একটি বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। প্রতিদিন ৫টি ভিন্ন দৈনিক পত্রিকা রাখা হয়। এছাড়া বেশ কিছু ম্যাগাজিনের নিয়মিত সকল সংস্করণ রাখা হয়।এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য ফটোস্ট্যাট করার ব্যবস্থা আছে। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য এখানে ইন্টারনেট সংযোগ সহ পর্যাপ্ত সংখ্যক কম্পিউটার রয়েছে।

Central Library

Central Library

পরিবহণ ব্যবস্থা:
চুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ১০টি বাস সাপ্তাহিক কার্যদিবসগুলোতে ক্যাম্পাস ও শহরের মধ্যে যাতায়াত করে থাকে।

অন্যান্য সংগঠন সমূহ

চুয়েট কম্পিউটার ক্লাব
রোবো-মেকাট্রনিক্স এসোসিয়েশন
গ্রীন ফর পীস
জয়ধ্বনি
চুয়েট ফটোগ্রাফিক সোসাইটি
চুয়েট ক্যারিয়ার ক্লাব
চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটি
চুয়েট হায়ার স্টাডি সোসাইটি
চুয়েট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন
চুয়েট স্পোর্টস ক্লাব

Campus

Campus

ভর্তি

চুয়েটে স্নাতক শ্রেণীতে লেভেল -১ টার্ম-১ এ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় । ভর্তির শিক্ষার্থী বাছাই একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে করা হয়। সাধারণত অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে ভর্তি ফর্ম প্রকাশ হয়। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও ইংরেজীতে একটি ন্যূনতম গ্রেড পয়েন্ট থাকলে একজন ভর্তিচ্ছুক ফর্ম সংগ্রহ করতে পারে। ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদানের জন্য উল্লেখিত ৪টি বিষয়ে সর্বোচ্চ গ্রেডপয়েন্ট অনুসারে প্রথম ১০০০০ জনের একটি তালিকা (শর্টলিস্ট) প্রকাশ করা হয়। এই ১০০০০ জন পরীক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয় এবং তাদের মধ্য থেকে মেধাতালিকার প্রথম ৮৩০ জন কে ভর্তি করানো হয়। “ক” ও “খ” এই দুটি বিভাগে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। শুধু প্রকৌশল বিভাগসমূহ ও নগর পরিকল্পনা বিভাগের জন্য “ক” বিভাগে এবং প্রকৌশল বিভাগসমূহ, নগর পরিকল্পনা ও স্থাপত্য বিভাগের জন্য “খ” বিভাগে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। “ক” বিভাগের পরীক্ষা লিখিত পদ্ধতিতে নেয়া হয়ে থাকে। ৬০০ নম্বরের পরীক্ষাটি ৩ ঘন্টায় হয়ে থাকে।এছাড়া “খ” বিভাগের ভর্তিচ্ছুদের ২ ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠেয় মুক্তহস্ত অঙ্কন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।
স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি তে ভর্তির জন্য স্নাতক শ্রেনীর প্রাপ্ত সিজিপিএ বিবেচনা করা হয় এবং ভর্তিচ্ছুদের ইন্টারভিউ গ্রহণ করা হয়।

Academic Road

Academic Road

উপসংহার

ভার্সিটি লাইফকে স্মরণীয় করে রাখতে, পড়ালেখার পাশাপাশি জীবনটাকে উপভোগ করতে চাইলে ভর্তি হতে পারো অপরূপ সুন্দর, সেশনজট মুক্ত, গ্রিন ক্যাম্পাসখ্যাত চুয়েট ক্যাম্পাসে।
চুয়েট ক্যাম্পাস শুধু তোমাকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিই দিবে না, সেই সাথে উপহার দিবে সুন্দর, স্মরণীয় চারটি বছর। সবার জন্য শুভকামনা রইলো।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রিভিউ

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রিভিউ

শহরের যানজট ও কোলাহল মুক্ত পরিবেশে নিবিড় গবেষনার লক্ষ্যে যশোরের মূল শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে স্বাধীনতা সড়কে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান। ক্যাম্পাসের মনোরম পরিবেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশের গ্রামীণ মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সবার নজর কাড়ে। হ্যাঁ, বলছিলাম যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা।

ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

পরিচিতি

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সংক্ষেপে যবিপ্রবি বা JUST বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তর যশোর জেলার প্রথম এবং একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। উচ্চ শিক্ষার মাধ্যমে আধুনিক জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০৭ সালের ২৫শে জানুয়ারি যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের সাজিয়ালি মৌজার আমবটতলা নামক স্থানে ৩৫ একর জায়গা জুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপিত হয়। ২০০৯ সালে ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষে “কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (CSE)”, “পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (EST)”, “অণুজীববিজ্ঞান (MB)” এবং “ফিসারীজ এন্ড মেরিন বায়োসায়েন্স (FMB)” বিভাগে ২০০ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম ব্যাচের কার্যক্রম।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭টি অনুষদের অধীনে মোট ২৪ বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রায় ৪৩০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত।

কেন পড়ব?

দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশেষ করে এর প্রকৌশল অনুষদ দেশব্যাপী সুনামের সহিত কার্যক্রম চালাচ্ছে। এছাড়াও আছে সবুজে ঘেরা সুন্দর ক্যাম্পাস। এখানে বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন অনুষদের পাশাপাশি রয়েছে ব্যবসায় শিক্ষা এবং কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ। ফলে শুধু বিজ্ঞান বিষয়কই নয়, পাশাপাশি ব্যবসায় প্রশাসন, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ক ডিপার্টমেন্টে অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে।
এছাড়াও যবিপ্রবির রয়েছে সবুজে ঘেরা অসাধারণ ক্যাম্পাস। পাশাপাশি রয়েছে সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা। মানসম্মত শিক্ষক, অত্যাধুনিক ল্যাব, হল, কেন্দ্রীয় মাঠ, অডিটোরিয়াম, ক্যাফেটেরিয়া ইত্যাদি সকল সুবিধাই যবিপ্রবিতে রয়েছে।
সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ক্লাব ও সোসাইটি। যা ক্যাম্পাস লাইফকে আরো রঙিন করে তুলবে।

কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া

কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া

অনুষদ ও বিভাগ

প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ

১. কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE)
২. ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE)
৩. ইন্ডাসট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (IPE)
৪. পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং(PME)
৫. কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ChE)
৬. বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং (BME)
৭. টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (TE)

জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ

১. ফার্মেসী (Pharm)
২. অণুজীববিজ্ঞান (MB)
৩. ফিসারিজ এন্ড মেরিন বায়োসাইন্স (FMB)
৪. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি (GEBT)
৫. ফিজিওথেরাপি এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন (PR)

ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ

১. পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (EST)
২. পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি (NFT)
৩. কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজতকরণ প্রযুক্তি (APPT)

বিজ্ঞান অনুষদ

১. পদার্থবিজ্ঞান
২. গণিত
৩. রসায়ন

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ

১. একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (AIS)
২. ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং (FB)
৩. ম্যানেজমেন্ট (MGT)

কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ

১. বাংলা
২. ইংরেজি

স্বাস্থ্যবিজ্ঞান অনুষদ

১. শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান (PESS)

ল্যাব ফ্যাসিলিটি

যবিপ্রবিতে পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা রয়েছে এবং গবেষণার জন্য রয়েছে সকল যন্ত্রপাতি। এখানে রয়েছে সেন্টার ফর সফিস্টিকেটেড ইনস্ট্রুমেনটেশম এন্ড রিসার্চ ল্যাবরেটরি। এছাড়াও চলমান গবেষণা প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে: জিনোম সেন্টার,আধুনিক মৎস হ্যাচারি ও লাবরেটরি।

শহীদ মশিউর রহমান হল

শহীদ মশিউর রহমান হল

হল ফ্যাসিলিটি

যবিপ্রবিতে ২টি হল রয়েছে (১টি ছেলেদের, ১টি মেয়েদের)। এছাড়াও আরো ২টি হলের নির্মানাধীন কাজ শেষের দিকে। হলে ওয়াওফাই সুবিধা, কমনরুম, ফটোকপি মেশিন, লন্ড্রী, ক্যারাম, লুডু খেলার আলাদা রুম, টিভি দেখার রুম রয়েছে। এছাড়াও হলে বিভিন্ন সময়ে নানান ক্রিয়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

যবিপ্রবির হলগুলো হল:
১. শহীদ মসিয়ূর রহমান হল
২. শেখ হাসিনা হল

শেখ হাসিনা হল

শেখ হাসিনা হল

ক্যাম্পাস লাইফ

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস লাইফ বৈচিত্র্যময়। প্রতি সেশনে নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাস সজ্জিত হয় অপরুপ সৌন্দর্যে। নবীনদের পদচারণায় মুখরিত হয় ক্যাম্পাস। এছাড়াও ক্যাম্পাসে বিভিন্ন দিবস, যেমন: মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস, বসন্ত উৎসব, পূজা উৎসব, পিঠা উৎসব, পহেলা বৈশাখ ইত্যাদি যথাযথ আড়ম্বরের সাথে উদযাপন করা হয়। এছাড়া প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। তাছাড়াও বিভিন্ন উৎসবে সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রতি বছরই থাকে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। যার মধ্যে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা অন্যতম।

অডিটোরিয়াম

অডিটোরিয়াম

ক্লাব ও সোসাইটি

ডিবেটিং সোসাইটি ও রোভার স্কাউট গ্রুপ
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট গ্রুপ, ডিবেটিং সোসাইটি ও অন্যান্য ফোরাম বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বর্তমান ক্যাডেট সংখ্যা ৫০জন। বিএনসিসির কার্যক্রমকে সহায়তা করছে তিন নম্বর স্কোয়াড্রন (বিমান শাখা), বিমান ঘাটি, যশোর।

অন্যান্য সুবিধা

বলতে গেলে সব ধরনের সুযোগ সুবিধাই রয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

মেডিক্যাল সেন্টার
বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে একটি মেডিক্যাল সেন্টার। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেয়ে থাকে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলো সুবিধার মধ্যে অন্যতম।

মেডিক্যাল সেন্টার

মেডিক্যাল সেন্টার

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বৃহৎ বইয়ের সংগ্রহের লাইব্রেরী। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে বর্তমানে ১৩হাজার ৯৭৫টি বই, ১হাজার ৯১টি জার্নাল, ১লাখ ৫১হাজার ৫১১টি ই-জার্নাল, ৩০হাজার ৪৭৫টি ই-বুক, ৫০৬টি অডিও ভিজ্যুয়াল সামগ্রী ও ২১৪ টি অন্যান্য সংগ্রহ রয়েছে। এছাড়াও গ্রন্থাগারে পাঠকক্ষ সেবা, ই-রিসোর্স সেন্টার, রিপ্রোগ্রাফী সেবা, রেফারেন্স সেবা, দৈনিক পত্রিকা পাঠ সেবা বিদ্যমান।

টিএসসি ও ক্যাফেটেরিয়া
দ্বিতল বিশিষ্ট একটি ভবনে টিএসসি ও ক্যাফেটেরিয়া অবস্থিত। যার নিচ তলায় ক্যাফেটেরিয়া অবস্থিত।

কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া

কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া

কেন্দ্রীয় মসজিদ

মুসলিম ছেলেদের নামাজের জন্য ক্যাম্পাসে রয়েছে একটি মসজিদ।

পরিবহন সুবিধা

দূর দূরান্ত থেকে আগত শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বাসের ব্যবস্থা। এছাড়াও শিক্ষকদের জন্যও বাস ও মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা রয়েছে।

বাস সার্ভিস

বাস সার্ভিস

কেন বিখ্যাত?

বিশেষভাবে যবিপ্রবি উন্নতমানের গবেষণা ও আবিস্কারের জন্য বিখ্যাত। যার উদাহরণস্বরূপ ২০১৮ সালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মহমান্য ভিসি প্রফেসর ড. মো: আনোয়ার হোসাইন স্যারের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের গবেষক দল বাংলাদেশে সঞ্চারনশীল ভাইরাস দ্বারা ক্ষুরা রোগে প্রতিরোধের একটি কার্যকর টিকা উদ্ভাবন করেছেন। যার ফলে ভিসি স্যার বিজ্ঞান একাডেমীর স্বর্ণপদক লাভ করেন।এছাড়াও যবিপ্রবির ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩য় ব্যাচের ৮ শিক্ষার্থী ঢ ধীরং ৩৪০ নামে ড্রোন আবিস্কার করেন। যাতে ঘুরতে সক্ষম ক্যামেরা ও অন্যান্য আধুনিক সরঞ্জাম।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) তে অদম্য-৭১ নামে একটি ভাস্কর্য রয়েছে। যেটি ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বহুগুনে বাড়িয়ে তুলেছে।

ভর্তি পদ্ধতি

অন্য কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে সেকেন্ড টাইম চালু রয়েছে। ফলে ভর্তি পরীক্ষায় অনেক বড় প্রতিযোগীতার সৃষ্টি হয়।
যবিপ্রবিতে প্রতিবছর বিভিন্ন ইউনিটে নভেম্বরের শেষের দিকে স্নাতকে (অনার্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ভর্তি পরীক্ষা মোট ১০০ নম্বরে হয়। যার মধ্যে ৮০ নম্বরে এমসিকিউ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বাকি ২০ নম্বর থাকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জিপিএর উপর।

শেষ কথা

শহরের যানজট কোলাহল মুক্ত ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশে মানসম্মত গবেষণার লক্ষ্যে যবিপ্রবির ক্যাম্পাস অন্যান্য। তাই এখনই অন্যান্য ভার্সিটির সাথে লক্ষ্য রাখতে পারো ৩৫একরের সবুজ এই যবিপ্রবি ক্যাম্পাসটি।