শহরের যানজট ও কোলাহল মুক্ত পরিবেশে নিবিড় গবেষনার লক্ষ্যে যশোরের মূল শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে স্বাধীনতা সড়কে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান। ক্যাম্পাসের মনোরম পরিবেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশের গ্রামীণ মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সবার নজর কাড়ে। হ্যাঁ, বলছিলাম যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা।

ক্যাম্পাস

ক্যাম্পাস

পরিচিতি

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সংক্ষেপে যবিপ্রবি বা JUST বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তর যশোর জেলার প্রথম এবং একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। উচ্চ শিক্ষার মাধ্যমে আধুনিক জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০৭ সালের ২৫শে জানুয়ারি যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের সাজিয়ালি মৌজার আমবটতলা নামক স্থানে ৩৫ একর জায়গা জুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপিত হয়। ২০০৯ সালে ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষে “কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (CSE)”, “পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (EST)”, “অণুজীববিজ্ঞান (MB)” এবং “ফিসারীজ এন্ড মেরিন বায়োসায়েন্স (FMB)” বিভাগে ২০০ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম ব্যাচের কার্যক্রম।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭টি অনুষদের অধীনে মোট ২৪ বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রায় ৪৩০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত।

কেন পড়ব?

দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশেষ করে এর প্রকৌশল অনুষদ দেশব্যাপী সুনামের সহিত কার্যক্রম চালাচ্ছে। এছাড়াও আছে সবুজে ঘেরা সুন্দর ক্যাম্পাস। এখানে বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন অনুষদের পাশাপাশি রয়েছে ব্যবসায় শিক্ষা এবং কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ। ফলে শুধু বিজ্ঞান বিষয়কই নয়, পাশাপাশি ব্যবসায় প্রশাসন, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ক ডিপার্টমেন্টে অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে।
এছাড়াও যবিপ্রবির রয়েছে সবুজে ঘেরা অসাধারণ ক্যাম্পাস। পাশাপাশি রয়েছে সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা। মানসম্মত শিক্ষক, অত্যাধুনিক ল্যাব, হল, কেন্দ্রীয় মাঠ, অডিটোরিয়াম, ক্যাফেটেরিয়া ইত্যাদি সকল সুবিধাই যবিপ্রবিতে রয়েছে।
সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ক্লাব ও সোসাইটি। যা ক্যাম্পাস লাইফকে আরো রঙিন করে তুলবে।

কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া

কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া

অনুষদ ও বিভাগ

প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ

১. কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE)
২. ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE)
৩. ইন্ডাসট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (IPE)
৪. পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং(PME)
৫. কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (ChE)
৬. বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং (BME)
৭. টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (TE)

জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ

১. ফার্মেসী (Pharm)
২. অণুজীববিজ্ঞান (MB)
৩. ফিসারিজ এন্ড মেরিন বায়োসাইন্স (FMB)
৪. জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি (GEBT)
৫. ফিজিওথেরাপি এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন (PR)

ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ

১. পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (EST)
২. পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি (NFT)
৩. কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজতকরণ প্রযুক্তি (APPT)

বিজ্ঞান অনুষদ

১. পদার্থবিজ্ঞান
২. গণিত
৩. রসায়ন

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ

১. একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (AIS)
২. ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং (FB)
৩. ম্যানেজমেন্ট (MGT)

কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ

১. বাংলা
২. ইংরেজি

স্বাস্থ্যবিজ্ঞান অনুষদ

১. শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান (PESS)

ল্যাব ফ্যাসিলিটি

যবিপ্রবিতে পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা রয়েছে এবং গবেষণার জন্য রয়েছে সকল যন্ত্রপাতি। এখানে রয়েছে সেন্টার ফর সফিস্টিকেটেড ইনস্ট্রুমেনটেশম এন্ড রিসার্চ ল্যাবরেটরি। এছাড়াও চলমান গবেষণা প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে: জিনোম সেন্টার,আধুনিক মৎস হ্যাচারি ও লাবরেটরি।

শহীদ মশিউর রহমান হল

শহীদ মশিউর রহমান হল

হল ফ্যাসিলিটি

যবিপ্রবিতে ২টি হল রয়েছে (১টি ছেলেদের, ১টি মেয়েদের)। এছাড়াও আরো ২টি হলের নির্মানাধীন কাজ শেষের দিকে। হলে ওয়াওফাই সুবিধা, কমনরুম, ফটোকপি মেশিন, লন্ড্রী, ক্যারাম, লুডু খেলার আলাদা রুম, টিভি দেখার রুম রয়েছে। এছাড়াও হলে বিভিন্ন সময়ে নানান ক্রিয়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

যবিপ্রবির হলগুলো হল:
১. শহীদ মসিয়ূর রহমান হল
২. শেখ হাসিনা হল

শেখ হাসিনা হল

শেখ হাসিনা হল

ক্যাম্পাস লাইফ

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস লাইফ বৈচিত্র্যময়। প্রতি সেশনে নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাস সজ্জিত হয় অপরুপ সৌন্দর্যে। নবীনদের পদচারণায় মুখরিত হয় ক্যাম্পাস। এছাড়াও ক্যাম্পাসে বিভিন্ন দিবস, যেমন: মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস, বসন্ত উৎসব, পূজা উৎসব, পিঠা উৎসব, পহেলা বৈশাখ ইত্যাদি যথাযথ আড়ম্বরের সাথে উদযাপন করা হয়। এছাড়া প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। তাছাড়াও বিভিন্ন উৎসবে সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রতি বছরই থাকে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। যার মধ্যে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা অন্যতম।

অডিটোরিয়াম

অডিটোরিয়াম

ক্লাব ও সোসাইটি

ডিবেটিং সোসাইটি ও রোভার স্কাউট গ্রুপ
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট গ্রুপ, ডিবেটিং সোসাইটি ও অন্যান্য ফোরাম বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। বর্তমান ক্যাডেট সংখ্যা ৫০জন। বিএনসিসির কার্যক্রমকে সহায়তা করছে তিন নম্বর স্কোয়াড্রন (বিমান শাখা), বিমান ঘাটি, যশোর।

অন্যান্য সুবিধা

বলতে গেলে সব ধরনের সুযোগ সুবিধাই রয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে।

মেডিক্যাল সেন্টার
বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে একটি মেডিক্যাল সেন্টার। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেয়ে থাকে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলো সুবিধার মধ্যে অন্যতম।

মেডিক্যাল সেন্টার

মেডিক্যাল সেন্টার

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বৃহৎ বইয়ের সংগ্রহের লাইব্রেরী। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে বর্তমানে ১৩হাজার ৯৭৫টি বই, ১হাজার ৯১টি জার্নাল, ১লাখ ৫১হাজার ৫১১টি ই-জার্নাল, ৩০হাজার ৪৭৫টি ই-বুক, ৫০৬টি অডিও ভিজ্যুয়াল সামগ্রী ও ২১৪ টি অন্যান্য সংগ্রহ রয়েছে। এছাড়াও গ্রন্থাগারে পাঠকক্ষ সেবা, ই-রিসোর্স সেন্টার, রিপ্রোগ্রাফী সেবা, রেফারেন্স সেবা, দৈনিক পত্রিকা পাঠ সেবা বিদ্যমান।

টিএসসি ও ক্যাফেটেরিয়া
দ্বিতল বিশিষ্ট একটি ভবনে টিএসসি ও ক্যাফেটেরিয়া অবস্থিত। যার নিচ তলায় ক্যাফেটেরিয়া অবস্থিত।

কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া

কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া

কেন্দ্রীয় মসজিদ

মুসলিম ছেলেদের নামাজের জন্য ক্যাম্পাসে রয়েছে একটি মসজিদ।

পরিবহন সুবিধা

দূর দূরান্ত থেকে আগত শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বাসের ব্যবস্থা। এছাড়াও শিক্ষকদের জন্যও বাস ও মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা রয়েছে।

বাস সার্ভিস

বাস সার্ভিস

কেন বিখ্যাত?

বিশেষভাবে যবিপ্রবি উন্নতমানের গবেষণা ও আবিস্কারের জন্য বিখ্যাত। যার উদাহরণস্বরূপ ২০১৮ সালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মহমান্য ভিসি প্রফেসর ড. মো: আনোয়ার হোসাইন স্যারের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের গবেষক দল বাংলাদেশে সঞ্চারনশীল ভাইরাস দ্বারা ক্ষুরা রোগে প্রতিরোধের একটি কার্যকর টিকা উদ্ভাবন করেছেন। যার ফলে ভিসি স্যার বিজ্ঞান একাডেমীর স্বর্ণপদক লাভ করেন।এছাড়াও যবিপ্রবির ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৩য় ব্যাচের ৮ শিক্ষার্থী ঢ ধীরং ৩৪০ নামে ড্রোন আবিস্কার করেন। যাতে ঘুরতে সক্ষম ক্যামেরা ও অন্যান্য আধুনিক সরঞ্জাম।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) তে অদম্য-৭১ নামে একটি ভাস্কর্য রয়েছে। যেটি ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বহুগুনে বাড়িয়ে তুলেছে।

ভর্তি পদ্ধতি

অন্য কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে সেকেন্ড টাইম চালু রয়েছে। ফলে ভর্তি পরীক্ষায় অনেক বড় প্রতিযোগীতার সৃষ্টি হয়।
যবিপ্রবিতে প্রতিবছর বিভিন্ন ইউনিটে নভেম্বরের শেষের দিকে স্নাতকে (অনার্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ভর্তি পরীক্ষা মোট ১০০ নম্বরে হয়। যার মধ্যে ৮০ নম্বরে এমসিকিউ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বাকি ২০ নম্বর থাকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জিপিএর উপর।

শেষ কথা

শহরের যানজট কোলাহল মুক্ত ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশে মানসম্মত গবেষণার লক্ষ্যে যবিপ্রবির ক্যাম্পাস অন্যান্য। তাই এখনই অন্যান্য ভার্সিটির সাথে লক্ষ্য রাখতে পারো ৩৫একরের সবুজ এই যবিপ্রবি ক্যাম্পাসটি।